সর্বশেষ আপডেট



» জেলিযুক্ত ও রং মেশানো মাছ জব্দ করতে গভীর রাতে মৎস্য আড়তে বারইয়ারহাট পৌর মেয়র খোকনের অভিযান (ভিড়িওসহ)

» মিরসরাইয়ে ন্যায় বিচারের দাবীতে গরু ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন

» লিও ক্লাব অব চট্টগ্রাম মিরসরাইয়ের কমিটি গঠন; সভাপতি তোফাজ্জল , সম্পাদক আসিফ

» কথা রাখলেন বারইয়ারহাট পৌর মেয়র খোকন : অসহায় বিধবা পেলেন নতুন ঘর (ভিড়িওসহ)

» কুয়েতে দুর্ঘটনায় নিহত ইছাখালীর গোলাম রসুলের পরিবারকে দেড় লক্ষাধিক টাকার অনুদান দিল মিরসরাই সমিতি কুয়েত

» স্মৃতিতে সড়কে নিভে যাওয়া আলা উদ্দিন : মধ্যম মুরাদপুর থেকে ধানমন্ডি ২৭

» মঘাদিয়া ও মিরসরাই পৌরসভায় ১ দিনের ব্যবধানে করোনায় ২ জনের মৃত্যু

» বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণও পুণর্বাসন সোসাইটির মিরসরাই উপজেলা যুবকমান্ডের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা

» একশত পরিবারকে ইফতার সামগ্রী দিল পশ্চিম জোয়ার ক্রীড়া সংস্থা

» মুহুরী প্রজেক্ট ফুটবল প্রিমিয়ার লীগের ফাইনাল সম্পন্ন (ভিড়িওসহ)

» বারইয়ারহাট গরুর মাংস বিক্রেতাদের কঠোর হুশিয়ারি দিলেন মেয়র খোকন, নতুন দাম নির্ধারণ (ভিড়িওসহ)

» মিরসরাই উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা, নেতৃস্থানীয় নেতাদের সাথে মতবিনিময়

» মিরসরাইয়ের প্রকৌশলী রুবেল ফেনীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত

» মহিয়সী নারী জাহানারা চৌধুরী লাকীর চিরবিদায়; স্মৃতি রোমন্থন

» করোনায় প্রবাসীর মৃত্যু, লাখ টাকা অনুদান দিল মিরসরাই জনকল্যাণ সমিতি কুয়েত

» মিরসরাইয়ে মুহুরী প্রজেক্ট ফুটবল প্রিমিয়ার লীগের উদ্বোধন

» কুয়েতে ভবন থেকে পড়ে নিহত মিরসরাইয়ের গোলাম রসুলের লাশ দেশে আসছে কাল

» মিরসরাইয়ে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত

» মুক্তিযুদ্ধ ও মীরসরাইয়ের যুবশক্তি

» দক্ষ জনশক্তি গড়ার লক্ষ্যে মিরসরাইয়ে অর্ধশত শিক্ষার্থী নিয়ে টেকনিক্যাল স্কুলের যাত্রা শুরু

সম্পাদক ও প্রকাশক

এম আনোয়ার হোসেন
মোবাইলঃ ০১৭৪১-৬০০০২০, ০১৮২০-০৭২৯২০।

সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ

প্রিন্সিপাল সাদেকুর রহমান ভবন (দ্বিতীয় তলা), কোর্ট রোড, মিরসরাই পৌরসভা, চট্টগ্রাম।
ই-মেইলঃ press.bd@gmail.com, newsmirsarai24@gmail.com

Desing & Developed BY GS Technology Ltd
১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং,৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মহিয়সী নারী জাহানারা চৌধুরী লাকীর চিরবিদায়; স্মৃতি রোমন্থন

এম. জামশেদ আহমেদ>>>>>> জাহানারা চৌধুরী লাকী আমার খালাতো বোন। তারা চার ভাইবোন। অন্যরা হলো রৌশন আরা চৌধুরী রিনা, মনোয়ারা চৌধুরী রূপনা ও মোজাম্মেল হক চৌধুরী মিহির। তাদের পিতা ফজলুল হক চৌধুরী গণপূর্ত সম্পদ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিল। তিনি ২০২০ সালের ২৭ মে ইহলোক ত্যাগ করেন ও মা নজমুন নেছা লেদু ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। তারা সবাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছে। চট্টগ্রাম শহর থেকে শাটল ট্রেনে আসা-যাওয়া করে ১৯৮৫ সনে পদার্পন করে ক্রমান্বয়ে ২০০০ সনে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ইতি টানে। একসময় স্থায়ী নিবাস ছিল মিরসরাই উপজেলার ৭ নম্বর কাটাছরা ইউনিয়নের কাটাছরা গ্রামে। পরবর্তীতে পিতার চাকুরীর সুবাদে চট্টগ্রাম নগরীর অলংকার ৬১০ আবদুল আলী নগরে নতুন ঠিকানা হয়। তারা ভাই-বোন সবাই উচ্চ শিক্ষিত ও সম্মানজনক চাকুরীতে অধিষ্ঠিত। রৌশন আরা চৌধুরী রিনার পড়াশোনা এম.এস.এস (সমাজতত্ব), তিনি চট্টগ্রাম পিটিআই’র ইন্সটাক্টর, জাহানারা চৌধুরী লাকীর পড়াশোনা ছিল এম.এস.এস (রাষ্ট্র বিজ্ঞান), তিনি সাবেক, কুমিল্লা ব্র্যাক ট্রেনিং সেন্টারের প্রশিক্ষক ছিলেন, মনোয়ারা চৌধুরী রূপনার এম.এস.এস (সমাজতত্ব), তিনি মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট ডিগ্রী কলেজের সমাজতত্ব বিভাগের প্রভাষক, মোজাম্মেল হক চৌধুরী মিহিরের পড়াশোনা এম.এস.এস (রাষ্ট্র বিজ্ঞান), তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাস উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক।

খালুর মৃত্যুর দিনের সেই একই অবস্থা। করোনার ভয়াবহতা কমে নাই। ঘরে থাকুন, নিরাপদ থাকুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। এমনতর আতঙ্কের মাঝে দিনাতিপাত চলছে। মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে খবর নিয়ে জানলাম মামা মহি উদ্দিনকে ২০ জুন দুপুরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মিঠাছরা কাদির বক্স ভূঁইয়া বাড়ীতে জানাযা পড়ানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সীমিত আয়োজনে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকার আবদুল্ল্যাহপুরে বাসার কাছাকাছি কবরস্থানে সীমিত আয়োজনে জাহানারা চৌধুরী লাকীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।আমার খালু ফজলুল হক চৌধুরী ও খালা নজমুন নেছা লেদু শিক্ষানুরাগী ছিলেন। সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। শিক্ষা জীবন শেষে সকলেই যোগ্যতা অনুযায়ী সম্মানজনক চাকুরী পেয়েছে। মেয়েদের যোগ্য স্বামীর কাছে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে-মেয়ে সমানতালে এগিয়েছে। মেয়ে বেশী হলে মা-বাবাদের দুশ্চিন্তার অন্ত থাকেনা, যাহা ভুল প্রমাণিত করে রীনা, লাকী, রূপনা মা-বাবার সম্মান বাড়িয়ে দিয়েছে। জয়ীতা মা ও গর্বিত পিতা বললেও ভুল হবেনা। একটি আলোকিত পরিবারও বলা যেতে পারে।
জাহানারা চৌধুরী লাকী চাকুরী করত ব্র্যাকে। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন আবদুল মোমেনের সঙ্গে। তিনি চট্টগ্রামের স্বনামধন্য জামিয়া আহমদিয়া মাদ্রাসায় উচ্চতর অধ্যয়ন করেন এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন । মোমেন মাদ্রাসা শিক্ষক, হজ্ব কাফেলার সাথে জড়িত, ইসলামী ফন্টের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত ছিলেন। সংসার জীবনে পদার্পণ করে লাকী চাকুরী ছেড়েছিল। একজন প্রতিষ্ঠিত আলেমের সাথে বিয়ে হয়েছিল বলা যেতে পারে।

আমার খালু ফজলুল হক ও খালা নজমুন নেছা আলেমের কাছে লাকীকে বিয়ে দিয়ে ভেবেছিলেন তাদের মৃত্যুর পর জামাতা জানযা পড়াবেন ও কবরের পাশে দাঁড়িয়ে জেয়ারত করবেন, দোয়া করবেন। দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য একটা ভালো কাজ করলেন। তাঁদের সে আশা পূরণ হয়েছিল। মোমেন শ্বশুর-শ্বাশুড়ী দুই জনের জানাযা পড়িয়েছিলেন এবং দোয়া করেছিলেন। ফজলুল হক বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন, তাই জামাতাকে দিয়ে বদলী হজ্ব সম্পন্ন করেন। মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামা মোশাররফ হোসেন ও মামী মনোয়ারা বেগম হজ্ব কাফেলায় ( মোমেনের) বছর দুয়েক আগে পবিত্র হজ্বব্রত সম্পাদন করেন। এদিক থেকে লাকী- মোমেন দম্পতির আত্মীয়দের কাছে বেশ সম্মানজনক অবস্থান তৈরী হয়েছিল।

খালু ফজলুল হকের বড়বোন ছিলেন আমার জেঠিমা। তাই আমাদের মিঠানালা মধ্যম মুরাদপুর বানাতলী দ্বার বক্স ভূঁইয়া বাড়ী রীনা ও লাকীদের একদিক থেকে বড় ফুফুর বাড়ী, অন্যদিকে বড় খালার বাড়ী। লাকীর জন্ম ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের আগে। প্রতিবছর একবার আমার আম্মা উম্মে হাবিবা বদরুন নেছা বাপের বাড়ী মিঠাছরা কাদির বক্স ভূঁইয়া বাড়ীতে নাইউর যেতেন। আম্মার সাথে আমরাও যেতাম। খালারাও আসতেন। নানার বাড়ীতে সবাই মিলে আম্মা-খালার সাথে আমরা এঘর-ওঘরে দাওয়াত খেতাম। খালাতো ভাই বোনেরা খালাসহ আমাদের বাড়ীতে বেড়াতে আসতেন। খালা ও ফুফুর দুই পরিবারে অতিথি হতেন। মুক্তিযুদ্ধের আগে খালু চট্টগ্রাম শহরে চাকুরী করলেও পরিবারের সকলে মিরসরাই কাটাছরা গ্রামের বাড়ীতে থাকতেন। যুদ্ধের পরে খালু পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে আসেন। পরবর্তীতে কয়েক বছর ঢাকাতেই ছিলেন। তাই ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে বেড়ানোর জন্য আমরা খালুদের বাসায়ই যেতাম। শহরের ঠিকানা বলতে খালুর বাসা। লাকী এস.এস.সি ঢাকা বোর্ড হতেই উত্তীর্ণ হয়। পরবর্তীতে খালু চট্টগ্রামে বদলী হলে ইন্টার মিডিয়েট থেকে চট্টগ্রামেই লেখাপড়া সম্পন্ন করে। বিয়ের পরে স্বামীর সাথে ঢাকাতেই চলে যায়।

ঢাকার অদুরে আবদুল্ল্যাপুরে লাকীর স্বামী মোমেন ছয়তলা বাড়ী করেন। বছর চার আগে খালা হঠাৎ স্ট্রোক করে বসেন। তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি করানো হয়। আমি স্বস্ত্রীক দেখতে যাই। এসময় লাকীর সাথে দেখা হয়। কুশলাদি জানার পর সে আমাকে জিজ্ঞাসা করে ভাইয়া আপনি শহরে বাড়ী করেছেন আমি বললাম না, তার চাহনীতে কিছু বলবে মনে হলো। পরক্ষণে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তোমরা করেছ কিনা? সে বললো ঢাকার আবদুল্ল্যাপুরে তারা ছয়তলা বাড়ী করেছে। আমি বললাম এটা শুনানোর জন্যই তুমি আমাকে বাড়ী করার কথা জিজ্ঞাসা করলে। খালার পাশের বেডে আরেকটা মহিলা রোগী পরিচয় জানতে পারলাম তার বাড়ী রাঙ্গুনীয়ার নিশ্চিন্তাপুরে। তাদের এলাকার কৃষি ব্যাংকে আমি ব্যবস্থাপক থাকায় ঋণ আদায়ের জন্য উক্ত রোগীর বাড়ীতে যাওয়া হয়েছে। অমনি লাকী বলে উঠলো ভাইয়া সারা বাংলাদেশকে চিনে। মোমেনের নানার বাড়ী মিরসরাই লতিফীয়াদের বাড়ী। এদিক থেকে লাকীর মামা শ্বশুরদের প্রতিষ্ঠিত অনেকেই আমাদের পরিচিত বন্ধু। খালা ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২ টায় মৃত্যুবরণ করেন। রাতেই মিহির আমাকে ফোন দেয় প্রত্যুষে আমি স্বস্ত্রীক খালুদের বাসা জোলারহাটে গমণ করি। একটু আগেই স্বামীসহ ঢাকা থেকে লাকী এসেছে। বাসার ভিতরে খালাকে ধোয়ানোর কাজে সকলে ব্যস্ত। কিন্তু ওসব বাদ দিয়ে সে ভাবীকে কিভাবে আপ্যায়ন করবে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এমনিতর অনেক স্মৃতি। আমার আম্মা উম্মে হাবিবা বদরুন নেছা মিঠাছরা কাদির বক্স ভূঁইয়া বাড়ীর মেয়েদের মধ্যে সবার বড়। আম্মার চার প্রজম্মে সকলে পরিবারের বড় মেয়ে। বাড়ীর সকলেই তাঁকে বড় বুবুই ডাকে। খালা নজমুন নেছা লেদু মেঝ। রীনা-লাকীদের বড় ভাই ছিলনা। মিহির সকলের ছোট। আম্মাকে বড় খালা এবং ভাইয়া হিসেবে আমাদেরকে চিনেছে। বড় ভাইয়া, মেঝ ভাইয়া, সেজ ভাইয়া এভাবে চিনেছে। আমরা চার ভাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি। আমাদের অনুজরাও চার ভাই-বোন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে। বলা যেতে পারে শিক্ষা ও চাকুরীর ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী মিঠাছরা কাদির বক্স ভূঁইয়া বাড়ীর মেয়ে দুই বোন উম্মে হাবিবা বদরুন নেছা ও নজমুন নেছা লেদুর পরিবার সমানতালে এগিয়ে চলছিল।

লাকীর দুছেলে ঢাকাতেই নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ছে। বড় ছেলে তাহমিদুল আবরার নিলয় ঢাকা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক (৪র্থ সেমিষ্টার) এর শিক্ষার্থী। ছোট ছেলে তাহসিনুল আবরার তাহসিন ঢাকা মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। একটি সুখী পরিবারে লাকীদের দিনাতিপাত চলছিল। শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র, সাংসারিক জীবন সর্বক্ষেত্রে সফলতার চিত্র ফুটে উঠেছে। নাম যেমন লাকী, ঠিক তেমনি বাস্তবেও লাকী। এমনটি ভাবলে মনে হয় ভুল হবেনা।
খালু ফজলুল হক চৌধুরী বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। বেশ কয়েকবছর ঘরে তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। গত রমজান মাস ও পবিত্র ঈদুল ফিতর শেষ হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে কোভিড্-১৯ ভয়াবহতা চলছে। ২১ দিন বাসায় থেকেছি। একদম বের হই নাই। প্রতিদিন প্রতিক্ষণে মৃত্যুর খবর আসছে। বয়স্কদের মৃত্যুর আশংকা বেশী। তাই আতঙ্কের বাড়তি মাত্রা যোগ হয়েছে। এমনিতর মুহুর্তে ২০২০ সালের ২৭ মে খবর আসে খালু ফজলুল হক চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন। ঘর থেকে বের হওয়া মোটেই নিরাপদ মনে করছিনা। ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন কঠোরভাবে মানতে হচ্ছে। পাড়া, মহল্লায় খবর দেওয়া হলেও কেউই আসছেনা জানলাম। মিহির, রীনা, লাকী, রূপনা প্রত্যেকের সাথে আলাদাভাবে মোবাইলে খবরাখবর নিতে থাকলাম। আমি বিচলিত হয়ে উঠলাম। কিছুক্ষণ পর খবর পেলাম মহল্লার লোক আসছেন, দাফন-কাফনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে গেছে। লাকীর সাথে আলাপ করে জানলাম ওরা ঢাকা থেকে পরিবারের সকলে প্রাইভেটকারে রওয়ানা দিয়েছে। খালুর জানাযা-দাফন ভালোভাবে সম্পন্ন হয়ে গেল। আমি জানাযায় পর্যন্ত যাইনি। নিজেকে কেমন জানি অমানবিক ও অপরাধী মনে করতে থাকলাম। দুই দিন পরে লাকীর সাথে আলাপ করে জানলাম তারা যথারীতি দাফন-কাফন সেরে ওইদিনই চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় গিয়ে পৌঁছে। আমি বললাম বোন অপরাধ করে ফেলেছি। খালুর জানাযায় যাইনি, সে বললো-কিভাবে আসবেন, করোনায় মৃত্যুর ভয়াবহতা চলছে। আমার চাচীদের কেউইতো আসেনি। দেখলাম কোন রাগ বা অভিমান নয় বরং আমি যে মোবাইল করে খবরাখবর নিচ্ছি এটাতেই সে শান্তনা খুঁজে পাচ্ছে। সত্যিকারভাবে বোনের মহানুভবতা অনুভব করলাম।
আমার ৩য় ভাই আলা উদ্দিন শিক্ষাজীবনে কীর্তিমান ছিল। ঢাকাতে এনজিও মাইডাসে সহকারী মহাব্যবস্থাপক পদে কর্মরত ছিল। ২৩ এপ্রিল ২০০৬ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করে। আমরা দিশেহারা, অমানিশার অন্ধকারে নিমজ্জিত। এক সপ্তাহ পরে লাকী সন্তান কোলে নিয়ে রীনাসহ শান্তনা জানানোর জন্য চট্টগ্রাম শহরে আমার বাসায় এসে হাজির হয়। আন্তরিকতা ও মানবিকতার দিক থেকেও যাহা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকছে।

গত বছরের ২০ জুন সকাল ৮ টায় ছোট মইন উদ্দিন খোকন থেকে মোবাইলে দু’টো মৃত্যুর খবর পেলাম প্রথমটা মামা মহিউদ্দিন ১৯ জুন রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে ঢাকাতে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি অবসরপ্রাপ্ত কাষ্টমস কর্মকর্তা, মিরসরাই মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, স্বাধীনতা পূর্বকালীন নিজামপুর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। দ্বিতীয়টা খালাতো বোন জাহানারা চৌধুরী লাকীর সেও ১৯ জুন রাত সাড়ে ১১ টায় ঢাকাতে মৃত্যুবরণ করেন।

জন্মিলে মরিতে হবে এটাই চিরাচরিত নিয়ম। তবে সে মৃত্যু যদি হয় অকালে হারিয়ে যুাওয়া শোকের আরো তীব্রতা যুক্ত হয়েছে মহামারীর ছোবলে মৃত্যুর পরে নিকটাত্মীয়দের উপস্থিত হতে না পারা। আমরা কেউই শান্তনা খুঁজে পাচ্ছিনা। মিরসরাইয়ের নিভৃত পল্লী কাটাছরায় জন্ম নেওয়া জাহানারা চৌধুরী লাকী ঢাকার আবদুল্ল্যাপুরে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে। চবিয়ান পরিবারের সদস্য, একজন মমতাময়ী জননী, উচ্চ শিক্ষিত ও যোগ্যতম সহধর্মিনী, মানবিক গুনসম্পন্ন মহিয়সী, আমাদের স্নেহময়ী ছোট বোন লাকী, সর্বদিক থেকে লাকী ছিল, কথাটি অনিস্বীকার্য্য। মিহিরের মেজ আপা পৃথিবীতে নেই। দু’টো পড়ুয়া ছেলে নিলয় ও তাহসীনের কথা ভাবতেই কষ্ট লাগে। তারা মাতৃ হারা, বিশাল শূন্যতা কোনদিন পূরণ হবার নয়। আমরা শোকার্ত ও বিস্মিত। সকলে মিলে জাহানারা চৌধুরী লাকীর জন্য দোয়া করি, আল্লাহ তাঁকে যেন বেহেস্ত নসীব করে, আমীন।
লেখক: এম. জামশেদ আহমেদ, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (অবঃ), বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, চট্টগ্রাম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক

এম আনোয়ার হোসেন
মোবাইলঃ ০১৭৪১-৬০০০২০, ০১৮২০-০৭২৯২০।

সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ

প্রিন্সিপাল সাদেকুর রহমান ভবন (দ্বিতীয় তলা), কোর্ট রোড, মিরসরাই পৌরসভা, চট্টগ্রাম।
ই-মেইলঃ press.bd@gmail.com, newsmirsarai24@gmail.com

Design & Developed BY GS Technology Ltd