সর্বশেষ আপডেট



» হাইতকান্দির দমদমা অভয়শরণ বৌদ্ধ বিহারে দিনব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব

» জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আ’লীগের ব্যতিক্রমী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ

» মিরসরাই কলেজে দেয়াল পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও আনন্দ আড্ডা

» করেরহাটে পিকআপ-সিএনজি অটোরিক্সা সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৬

» ইছাখালীর জেগে উঠা খাস চর এখন স্বর্ণের চরে পরিণত হয়েছে-ইঞ্জি. মোশাররফ

» মিরসরাইয়ে জাতীয় যুব দিবস পালিত

» চট্টগ্রাম নগরীতে শতভাগ আলোকায়ন হচ্ছে, বসবে ২০ হাজার ৬’শ এলইডি বাতি

» করেরহাট জয়পুর পূর্ব জোয়ার আ.নেছা ও. হক উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৬ ব্যাচের পুণর্মিলনী

» মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরীর ৩০০ একর জমিতে হচ্ছে ট্যানারি পল্লী

» উন্নয়নের স্বার্থে আগামীতেও আ’লীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে-ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ

» সৃজন যুব সংঘের আয়োজনে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মৎস্য চাষ প্রশিক্ষণ

» তরুণ সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী মঞ্জুর মোর্শেদ কনকের পিতা আলহাজ্ব মাহবুবুর রহমান অসুস্থ্য, দোয়া কামনা

» ২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা করে তারেক জিয়া শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল-ইঞ্জি. মোশাররফ

» চট্টগ্রামে প্রায় ৫২৪ কোটি টাকার ৭ প্রকল্প উদ্বোধন করলেন সেতুমন্ত্রী

» মিঠানালায় শাহ সূফী নূর মুহাম্মদ নিজামপুরী (রঃ) বার্ষিক মাহফিল ২৮ অক্টোবর

» মায়ানীতে ‘‌এ.এইচ.আর.আই’ চট্টগ্রাম শাখার উদ্যোগে বৃক্ষরোপন ও পরিচিতি সভা

» বিগত নির্বাচনে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে-ইঞ্জি. মোশাররফ

» প্রতি উপজেলা থেকে ১০ জনকে ধরতে চায় দুদক

» মিরসরাইয়ের ১০টি স্কুল, মাদ্রাসাও কলেজ এমপিওভুক্ত

» আল্লাহ ও নবীর কটূক্তিকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আইন করতে হবে-হেফাজত

সম্পাদক ও প্রকাশক

এম আনোয়ার হোসেন
মোবাইলঃ ০১৭৪১-৬০০০২০, ০১৮২০-০৭২৯২০।

সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ

প্রিন্সিপাল সাদেকুর রহমান ভবন (দ্বিতীয় তলা), কোর্ট রোড, মিরসরাই পৌরসভা, চট্টগ্রাম।
ই-মেইলঃ press.bd@gmail.com, newsmirsarai24@gmail.com

Desing & Developed BY GS Technology Ltd
১১ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং,২৮শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মিরসরাইয়ের কৃতি সন্তান নিয়াজ মোর্শেদ এলিট : চট্টগ্রামের তরুণ উদ্যোক্তার প্রতিচ্ছবি

সবুর শুভ :::: তরুণদের হাতেই এগিয়ে যাবে দেশ। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশেও যারা একাডেমিক্যালি ভাল ফল করে তাদেরকে বিনা সুদে লোন দেওয়া হয়। এভাবে তারা উদ্যোক্তা তৈরী করে। কিন্তু আমাদের এখানে তা হয় না। উদ্যোক্তা তৈরী করার জন্য নীতিমালা তৈরী করতে হবে। নীতি নির্ধারকদের মানসিকতার পরিবর্তন চাই। অভিজ্ঞতা ছাড়া লোন পাওয়া যায় না। করপোরেট হাউস সম্পর্কে নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, করপোরেট হাউসগুলো আত্মীয়তার কোটারি থেকে বের হতে পারেনি।

১ ও ৫ টনের পিকআপ তৈরী করার জন্য মীরসরাইয়ে একটি বড় প্রজেক্ট হাতে নেয়া হয়েছে।। চীন থাকবে পার্টনার হিসেবে। একশ’ কোটি টাকার ইনভেষ্টমেন্ট হবে এ প্রজেক্টে। ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজে আমরা পিছিয়ে বলেই গাড়ির মার্কেট হচ্ছে না আমাদের দেশে।

রাজনীতি নিয়ে বিশেষ কোন চিন্তা ভাবনা নেই তার। তবে রাজনীতি দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে হওয়া উচিৎ। যেটা এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। বর্তমানে রাজনীতিতে আসল জিনিস নেই। তরুণ শিক্ষিতরা রাজনীতিতে না আসলে সবকিছুই অযোগ্যদের দখলে চলে যাবে। তাই তরুণদের ভালভাবে শিক্ষিত হয়েই রাজনীতিতে আসা দরকার।দেশের উন্নয়নে মূল চালিকাশক্তি প্রাইভেট সেক্টর সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ না হওয়ার কারণ হচ্ছে গ্যাস নেই, ইলেট্রিসিটি নেই। এসব নেই যদি আছেতে রূপান্তরিত হয় তাহলেই দেশের অগ্রগতি।

তারুণ্যের উচ্ছ্বল ভুবনের বাসিন্দা তিনি। সেই ভুবনের যোগ্য প্রতিনিধি নিয়াজ মোর্শেদ এলিট। চট্টগ্রামের তরুণ উদ্যোক্তার প্রতিচ্ছবি। এলিট শব্দের মাহাত্ম্য যাই থাকুক। নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের আভিজাত্যপূর্ণ ছুটে চলা আছে খেলাধুলায়, সংগঠন গড়ায় ও ব্যবসা-বাণিজ্যে। তরুণদের আত্মনির্ভর হিসেবে গড়ে তোলার তাড়না তার ধ্যান-জ্ঞান। তারুণ্য নির্ভর নতুন নতুন সংগঠন গড়ে তরুণদের এগিয়ে যাওয়ার োগানকে আরো শব্দময় করার কাজ তিনি করেই যাচ্ছেন।

তবে নবীনের সাথে প্রবীণের চিরন্তন মনস্তাত্বিক লড়াইয়ে তরুণরা আর পিছিয়ে নেই বলেও মত নবীন উদ্যোক্তার। নবীন প্রবীণের এ দ্বন্দ্ব ঠিক যেন কবিতার এ লাইন, ‘‘আমি চাইলে রোদেলা তুমি তো চাও বৃষ্টি’’। অর্থাৎ কেউ রোদ চাইলে কেউ চাই বৃষ্টি। দুইজনের চাওয়াটা অবাঞ্চিত নয় কিন্তু। সমাজ বাস্তবতার চিরন্তন এ দ্বন্দ্বে জয় পরাজয়ের হিসেব হয় না। তবে প্রবীণদের অবহেলার বিষয়টিও অন্তর অন্দরে আঘাত করার পর ‘করার মানসিকতা’ জেদ হিসেবেই চেপে বসে তার মাথায়। এসব বিষয়সহ আরো বিভিন্ন দিক নিয়ে দৈনিক আজাদীর পক্ষ থেকে তার মুখোমুখি হই। গল্পে গল্পেই তাকে তুলে আনা হয়েছে পাঠকদের সামনে।

নিয়াজ মোর্শেদ এলিট দেশের স্বনামখ্যাত যানবাহন উৎপাদন ও বিপনন কোম্পানি বড়তাকিয়া গ্রুপের এমডি। বয়স মাত্র ৩৩ বছর। জন্মের পর পড়ালেখা শুরু চট্টগ্রাম সরকারি স্কুল দিয়ে। উচ্চ মাধ্যমিক ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে। তারপর নর্থসাউথ ইউনিভার্র্সিটি থেকে গ্রেজুয়েশন। ছোট বেলা থেকেই সংগঠন করা এবং খেলাধুূলার দিকে ঝোঁক ছিল তার। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই ঢাকা ব্রাদার্স ইউনিয়নের (ক্রিকেট) বোর্ড মেম্বার ও ক্রিকেট কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হই। এরপর পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়নের দায়িত্ব নেই। এ বছরও আমি ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেট কমিটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে আছি। চট্টগ্রাম বর্ষবরণ উৎসব পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। সংগঠন হচ্ছে আমার প্যাশন। প্যাশন না হলে কাজের গতি আসে না। এ প্যাশনের বিষয়টি সাঙ্গ করতে গেলে পকেট থেকে দিতে হয়। অনেকটা নিজের খেয়ে পরের মোষ চড়ানোর মতো।

মুদ্রার যেমন দুটো পিঠ আছে। অবহেলারও বোধ করি দুই পিঠ। একটি ইতিবাচক আরেকটি নেতিবাচক। যখন ব্রাদার্স ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট হই। সালটা ২০০৭। বোর্ড মিটিংয়ের সময় একজন লোক বলে উঠেন এলিট ছোট ছেলে কিভাবে দায়িত্ব পালন করবে? আঙ্কেলটা আবার বাবার বন্ধু। এটা এক ধরনের অপমানের মতো মনে হল। মনের কেন্দ্রভূমে আঘাত লাগার মতো মন্তব্য। আঘাতের ধাক্কা লাগল মনমস্তিষ্কেও। চোখে পানি এসে গিয়েছিল। তখনই মাথায় জেদ চেপে বসল আমাকে এগুতেই হবে। ভালভাবেই এগুতে হবে। সিদ্ধান্ত নিলাম তরুণদের জন্য কিছু করতে হবে। সেই শুরু।

ওই যে বললাম অবহেলার ইতিবাচক দিক আছে। এক্ষেত্রে আমার জেদটাই সেই দিক। বাবার বন্ধুর মন্তব্য নেতিবাচক থাকলেও আরেক প্রবীণ বলেছিলেন ‘ও পারবে’। এরপর শুরু হল চিটাগাং ব্রাদার্সের দায়িত্বে। এরপর জুনিয়র চেম্বার করলাম। খুলশী ক্লাব করলাম। তরুণদের ব্যবসা, বাজেট, উদ্যোগ সবকিছু নিয়ে আলোচনা হয়। তরুণদের জন্য সিঙ্গেল ডিজিট লোন দাবী করলাম। তরুণ উদ্যোক্তাদের গড়ে তোলার জন্য। ৩৫ বছরের নীচে দেশে সাড়ে ৫ কোটি তরুণ। এদেরকে নার্সিং করতে না পারলে দেশ এগুবে না। এদেরকে নিয়েই আমাদের কাজ। তারাই আমাদের ভিশন। তাই বলে প্রবীণদের অবহেলা কাম্য নয়। কারণ আমরাও একদিন প্রবীণ হবো।

তরুণদের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সুস্থ বিনোদনের কথা মাথায় রেখেই এসব সংগঠন করা। শুরুটা ক্রীড়া দিয়ে শেষ কোথায় জানি না। কোথায় থামব তাও অজানা। শুধু মাথায় আছে ‘ যেতে হবে, তরুণদেরকে নিয়ে আমাকে অনেকদূর যেতে হবে’।

বৈষম্য ও অবহেলা আমাকে খুলশী ক্লাব করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। সামাজিক প্ল্যাট ফরম করার মানসিকতা থেকেই এ ক্লাব। অধিকাংশ তরুণই বর্তমানে শিক্ষিত। আরো বৈষম্য হলে আরো সংগঠন হবে এ ধরনের প্রশ্নের জবাবে এলিট জানান, আসলে ‘করার’ মানসিকতাই বড়। বৈষম্য সব সময় উদ্যম সৃষ্টি নাও করতে পারে।

চট্টগ্রাম মানবাধিকার কমিশন উত্তর জেলার সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বললেন, প্রবীণ নবীন দ্বন্দ্ব থেকেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে নতুন কোন কিছু করার তাড়নার ব্যাপারটি ‘জেদ’ হিসেবেই চলে আসে। এটা যত তাড়াতাড়ি হয় ততই ভাল। তরুণদের জন্য প্ল্যাটফরম করার জেদ মূলত প্রবীনদের (সবাই নন) অবহেলা ও বৈষম্য থেকে জন্ম নিয়েছে আমার মধ্যে । তবে এটাও অনস্বীকার্য যে, নবীন প্রবীণ মানসিকতায় কিছু ঘাটতি থাকলেও একসময় সবাই একই কাতারে আমরা মিলব। প্রবীণদের মাঝেও এক ধরনের সহনীয় পরিবর্তন আসছে। এ পরিবর্তন দিয়েই সমাজ ও রাষ্ট্রকে ছুঁয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।

এলিট বর্তমান সমাজ বাস্তবতার কথা উল্লেখ করলেন এভাবে ‘আমরা সবাই রাজা’। প্রত্যেকে মনে করে ‘আমিই’ সঠিক। যুক্তি দিয়ে আমরা জিততে চাই না। বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে ‘কথা আর পাল্টা কথায়’ সময় পার হচ্ছে। কিন্তু এত বিশাল জনগোষ্ঠী নিয়ে কাজ করছি না। কিভাবে এত বিশাল জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানো যাবে তাতে মগ্নতা নেই। তরুণদের ব্যাপারে তার বক্তব্য হচ্ছে, সংখ্যায় বেশী হলেও আমরা সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে থাকি। অথচ তরুণরাই জাতির প্রাণশক্তি। উন্নয়ন শক্তি। এক্ষেত্রে শক্ত মনোবল ও লেগে থাকার মানসিকতাই হতে পারে তরুণদের মূলধন। লেগে থাকলে সাফল্য ধরা দেবেই।

এলিটের বক্তব্য হচ্ছে তরুণদের সাথে নিয়ে তাকে অনেকদূর যেতে হবে। সুতরাং মাত্র ৩৩ বছর বয়সে আত্মতৃপ্তির জায়গা খোঁজার অবকাশ নেই। সেভাবে চিন্তাও করিনি। চিন্তায় আছে অনেকদূর যেতে হবে। তবে উত্তরসূরীরা ভাল করলে খুশী হই। আনন্দ লাগে। আত্মতুষ্টির জায়গা খুঁজে পাই। ভবিষ্যতের জন্য একই ধরনের ম্যাসেজ থাকল তরুণদের জন্য। বড় পরিসরে কর্মজীবনের ব্যাপ্তি মাত্র ৮ বছর হল এলিটের। বিভিন্ন ফোরামে গেলে দেখা যায় তরুণ নেতৃত্বের জন্য কিছু জায়গা খালি থাকে। তখন খুবই ভাল লাগে। চট্টগ্রামে আগে ব্যবসার কথা বলার জন্য চার পাচঁজনের বেশী ছিল না। এখন অসংখ্য হয়েছে যারা ব্যবসা ভাল বুঝেন এবং ভাল বলেন।

ব্যবসায়িক পরিবারেই জন্ম এলিটের। বাবার হাতে ৮৯ সালে প্রতিষ্ঠা বড়তাকিয়া গ্রুপের। গাড়ি উৎপাদন ও বিপনন প্রতিষ্ঠান হিসেবে যার খ্যাতি এখন দেশের সীমানার বাইরেও ছড়িয়েছে। যাকে বাংলাদেশের টাটা বলা হচ্ছে। থ্রি-হুইলার এর প্রথম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান । বাস ও ট্রাক ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ফ্যাক্টরিও আছে এ গ্রুপের। এক্ষেত্রে আবার সব ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ যন্ত্রপাতি উৎপাদন সম্ভব হয়নি। এ সেক্টরটাতে আরো অনেক কাজ করার আছে বলে জানালেন বড়তাকিয়া গ্রুপের এমডি নিয়াজ মোর্শেদ এলিট।

মা, বোন, পিতা ও এলিট সবাই বড়তাকিয়া গ্রুপের বিভিন্ন দায়িত্বে আছে। এলিটের ছোট বোন অষ্ট্রেলিয়াতে পড়ালেখা করছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট বোনও হয়ত ব্যবসায় আসবে। এ গ্রুপ সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নিজের এলাকা মীরসরাইসহ বিভিন্ন স্থানে মসজিদ, এতিমখানা, স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান করেছে এ গ্রুপ। যার সুফল পাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।

এছাড়া এলিটের হাতে গড়া জুনিয়র চেম্বার থেকে ফ্রি মেডিকেল, ৭০জন এতিমের জন্য ভবন করে দেয়াসহ নানা জনসেবামূলক কাজ ইতোমধ্যে করা হয়েছে। এসব কাজকে আমরা প্রজেক্ট বলি। সামাজিক পরিবর্তন করতে চাই এসব ঠেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে।

এলিটের আইডল কে? এ প্রশ্ন মুখ থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই এলিটের উত্তর ‘আমার আইডল হচ্ছেন মা’। তিনি আমার কাজের প্রেরণা। সহধর্মিনীর প্রেরণাও এক্ষেত্রে উল্লেখ করতে চাই বলে দুই সন্তানের জনক এ তরুণ উদ্যোক্তা। স্ত্রীর নাম তাসমিনা আহমেদ। নর্থসাউথ থেকে আর্কিটেক্ট করেছেন তিনি। নগরীর মোহাম্মদ আলী রোড শ্বশুরবাড়ি। না পাওয়া নিয়ে তার বক্তব্য হচ্ছে, না পাওয়ার বেদনা আমাকে স্পর্শ করতে পারে না। বৈষম্য ও না পাওয়া থেকেই তো আমার ছুটে চলা। তাই এক্ষেত্রে বেদনাকে কাছে আসতে দেইনা।

উদ্যোক্তার চেয়ে সংগঠক হিসেবেই পরিচয় দিতেই বেশ পছন্দ এলিটের। হ্যাঁ ব্যবসাকে যদি একটি সাংগঠনিক কাঠামোতে ধরি তাহলে এটাতেও সন্তুষ্টির ব্যাপার আছে। কিন্তু এটার সাথে মুনাফা জড়িত বলেই বোধ করি ব্যবসাকে সংগঠনের কাঠামোতে ফেলা যাবে না।

চট্টগ্রাম বন্দর সম্পর্কে তার বক্তব্য হচ্ছে, চট্টগ্রাম বন্দর গডগিফটেড একটি বন্দর। এ ধরনের বন্দর ব্যবহার করে অনেক আগেই আমাদের দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু আমরা কেন পারছি না তা ভাববার বিষয়। আগামী দিনে চট্টগ্রামকে দেশের উন্নয়নে প্রস্তুতি নিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ঠেকসই উন্নয়ন জোন হচ্ছে অনেকগুলো। সেখানে আগামী ১০ বছরে ২০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। এটার জন্য তরুণ উদ্যোক্তা ও তরুণদের প্রস্তুতি নিতে হবে।

চট্টগ্রাম নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন। ডেভেলপিং অর্থনীতিতে টাকা কামানোর সুযোগ থাকে। আগামী ২০ বছর খুবই ইম্পোর্টেন্ট সময় এ টাকা কামানোর। সরকার যেভাবে চাচ্ছে এটা অব্যাহত থাকলে ভাল। কিন্তু এটাতে যদি ব্যত্যয় ঘটে তাহলে পুরো উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিত্র আরেক ধরনের হতে পারে। প্রাইভেট সেক্টর বাংলাদেশকে এতটুকুতে নিয়ে এসেছে। এখন সেটা আগের মতো করছে না। এর পেছনে নানা প্রতিবন্ধকতা কারণ হিসেবে রয়েছে। এখন প্রাইভেট সেক্টরে ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী এখন কমতির দিকে। এটা খুবই খারাপ দিক। সরকারি সেক্টর লেভেলে ডেভেলপ হচ্ছে। কিন্তু এটার সাথে যদি প্রাইভেট সেক্টর তাল না মেলায় তাহলে সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তরুণদের হাতেই এগিয়ে যাবে দেশ। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশেও যারা একাডেমিক্যালি ভাল ফল করে তাদেরকে বিনা সুদে লোন দেওয়া হয়। এভাবে তারা উদ্যোক্তা তৈরী করে। কিন্তু আমাদের এখানে তা হয় না। উদ্যোক্তা তৈরী করার জন্য নীতিমালা তৈরী করতে হবে। নীতি নির্ধারকদের মানসিকতার পরিবর্তন চাই। অভিজ্ঞতা ছাড়া লোন পাওয়া যায় না। করপোরেট হাউস সম্পর্কে বলেন, করপোরেট হাউসগুলো আত্মীয়তার কোটারি থেকে বের হতে পারেনি। যোগ্যতা না থাকলেও এমডি, ডিএমডি করতে হবে নিজেদের আত্মীয় স্বজনদেরকে। অথচ প্রথম প্রজেক্টে লাভ করার পরই আমাকে এমডির দায়িত্ব দেন বাবা।

নিজেদের ভবিষ্যত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ১ ও ৫ টনের পিকআপ তৈরী করার জন্য মীরসরাইয়ে একটি বড় প্রজেক্ট হাতে নেয়া হয়েছে।। চীন থাকবে পার্টনার হিসেবে। একশ’ কোটি টাকার ইনভেষ্টমেন্ট হবে এ প্রজেক্টে। ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজে আমরা পিছিয়ে বলেই গাড়ির মার্কেট হচ্ছে না আমাদের দেশে।

রাজনীতি নিয়ে বিশেষ কোন চিন্তা ভাবনা নেই তার। তবে রাজনীতি দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে হওয়া উচিৎ। যেটা এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। বর্তমানে রাজনীতিতে আসল জিনিস নেই। তরুণ শিক্ষিতরা রাজনীতিতে না আসলে সবকিছুই অযোগ্যদের দখলে চলে যাবে। তাই তরুণদের ভালভাবে শিক্ষিত হয়েই রাজনীতিতে আসা দরকার।দেশের উন্নয়নে মূল চালিকাশক্তি প্রাইভেট সেক্টর সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ না হওয়ার কারণ হচ্ছে গ্যাস নেই, ইলেট্রিসিটি নেই। এসব নেই যদি আছেতে রূপান্তরিত হয় তাহলেই দেশের অগ্রগতি। এলিট শেষ করলেন দৈনিক আজাদীকে ধন্যবাদ দিয়েই।
লেখক : সিনিয়র রিপোর্টার, দৈনিক আজাদী
#সূত্র-দৈনিক আজাদী

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক

এম আনোয়ার হোসেন
মোবাইলঃ ০১৭৪১-৬০০০২০, ০১৮২০-০৭২৯২০।

সম্পাদকীয় কার্যালয়ঃ

প্রিন্সিপাল সাদেকুর রহমান ভবন (দ্বিতীয় তলা), কোর্ট রোড, মিরসরাই পৌরসভা, চট্টগ্রাম।
ই-মেইলঃ press.bd@gmail.com, newsmirsarai24@gmail.com

Design & Developed BY GS Technology Ltd